বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ ৯ জনের শেষকৃত্য আগামীকাল মঙ্গলবার দেশটির তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রাইসির স্মরণে পাঁচদিনের শোক ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে তাসনিম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো উত্তর-পশ্চিম তাবরিজ শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের শেষকৃত্যও হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহগুলো প্রথমে তাবরিজের ফরেনসিক বিভাগে রাখা হবে। পরে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও তার সফরসঙ্গীদের স্মরণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটিতে পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
সোমবার সকালে জারি করা এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
রাইসিকে একজন কঠোর পরিশ্রমী আলেম এবং একজন জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করে খামেনি বলেন, দেশ এবং ইসলামের জনগণের সেবায় তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন রাইসি।
আয়াতুল্লাহ খামেনি আরও বলেন, ‘এই তিক্ত ট্র্যাজেডিতে, ইরানী জাতি একজন উষ্ণ হৃদয়, বিনয়ী এবং মূল্যবান সেবককে হারিয়েছে। সমালোচনার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও যিনি ইরানের জনগণের জন্য এবং ২৪ ঘন্টাই কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন।’
এর আগে রবিবার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব আজারবাইজানের খোদা আফারিন অঞ্চলে একটি বাঁধ উদ্বোধনের পর ফিরে আসার সময় দুর্ঘটনা কবলে পড়ে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি।
সফরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে বহনকারী দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে। তবে বৈরি আবহাওয়া ও কুয়াশা কারণে সমস্যায় পড়ার পরে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি।
হেলিকপ্টারটিতে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান এবং তাবরিজের জুমার নামাজের নেতা আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আল-ই-হাশেম, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালিক রহমেতিও ছিলেন।